ল্যুভ মিউজিয়ামে চুরির সময় ফেলে যায় সম্রাজ্ঞীর মুকুট, ছবি প্রকাশ
২০২৫ সালে অক্টোবরে হওয়া ল্যুভ মিউজিয়ামে দুঃসাহসিক চুরিতে চোররা সম্রাজ্ঞী ইউজিনির এক অমূল্য মুকুট ফেলে পালিয়েছিল। এ মুকুটটি ছিল ফ্রান্সের নেপোলিয়ন ৩য়-এর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজিনির, যা পান্না ও হীরার কারুকার্যে স্বর্ণের আটটি ঈগল খচিত।
চোরেরা পালানোর সময় মুকুটটি জাদুঘরের বাইরের ফুটপাতে ফেলে যায়। তিন মাসেরও বেশি সময় পর, ল্যুভ কর্তৃপক্ষ মুকুটটির কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যায়, মুকুটটি প্রায় ভেঙেচুরে গেছে। হীরার খিলানগুলো উপড়ে গেছে, রত্নখচিত ক্রসটি একদিকে হেলে এবং একটি ঈগল নিখোঁজ।
ল্যুভ জানিয়েছে, শীঘ্রই মুকুটটির মেরামতের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হবে।
জাদুঘরের আলংকারিক কলা বিভাগের পরিচালক অলিভিয়ার গ্যাবেট বলেন, প্রাথমিকভাবে সংস্কারের খরচ ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ইউরো। যেহেতু প্রায় সব অংশই উদ্ধার করা গেছে, আসল খরচ হবে শুধু সূক্ষ্ম মেরামতের জন্য।
চুরির ঘটনাটি জাদুঘর খোলার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। এটি পুরনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। এক হাজারের বেশি পুলিশ কর্মকর্তার তদন্তে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে মুকুটের বাইরে আর কোনো গয়না পাওয়া যায়নি।
সম্রাজ্ঞী ইউজিনির এ মুকুটটি ফরাসি রাজকীয় অলংকারের সীমিত সংগ্রহের একটি। ১৮৫৫ সালের বিশ্ব প্রদর্শনীর জন্য তৈরি এ মুকুটে আছে ১ হাজার ৩৫৪টি হীরা এবং ৫৬টি পান্না। ১৮৮৭ সালে যখন অধিকাংশ রাজকীয় গয়না নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল, সম্রাজ্ঞী এটি ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করেছিলেন এবং পরে তার ধর্মকন্যার কাছে হস্তান্তর করেন। ১৯৮৮ সালে ল্যুভ এটি সংগ্রহ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরেরা মুকুটটিকে কাঁচের শোকেসের ছোট ছিদ্র দিয়ে জোর করে টেনে বের করার চেষ্টা করে। এর ফলে এটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ফুটপাতে আছাড় খেয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ বছরের শেষ নাগাদ মুকুটটি পুনরায় জনসমক্ষে প্রদর্শন করা সম্ভব হবে।

